সোমবার, জুন ১, ২০২৬

মৌলভীবাজারে চিকিৎসকের ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

নতুন ফি কাঠামো প্রকাশের পর রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ; চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নজরদারির দাবি।

মৌলভীবাজারে এক চিকিৎসকের চেম্বার ফি বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি শহরের নুরুন নাহার ফার্মেসিতে বসা অধ্যাপক ডা. কাজী মহিবুর রহমানের নতুন ফি-সংক্রান্ত একটি নোটিশের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তার চেম্বার ফি পুনর্নির্ধারণ করা হবে। নোটিশ অনুযায়ী, প্রথম ভিজিটের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা এবং এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ভিজিটের জন্য ১,৪০০ টাকা।

ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী তাদের উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ফি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত রোগীদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ রাফি তার এক মন্তব্যে বলেন, জেলার সাধারণ মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের তুলনায় এ ধরনের ফি অনেক বেশি। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গৃহিণী নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন, চিকিৎসকের ফি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় মিলিয়ে অনেক পরিবারের জন্য চিকিৎসাসেবা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী চিকিৎসা ব্যয়ের সামগ্রিক বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, রোগীদের স্বার্থ বিবেচনায় চিকিৎসা খাতে ব্যয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য জানান, সরকারি হাসপাতালের অতিরিক্ত চাপ এবং বেসরকারি চিকিৎসাসেবার ব্যয়—দুইয়ের মাঝখানে পড়ে তারা অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে সমস্যার মুখোমুখি হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য চিকিৎসা ব্যয় ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তিনি চিকিৎসাসেবার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ কামনা করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনার পর অনেকেই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. কাজী মহিবুর রহমান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, চিকিৎসকদের ফি নির্ধারণের বিষয়ে দেশে নির্দিষ্ট কোনো একক হার না থাকায় বিভিন্ন চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফি কাঠামো ভিন্ন হয়ে থাকে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ