বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

৩০ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হলো সাড়ে ৫ লাখ!

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসন ভবন ‘গ্রিন সিটি’তে আসবাবপত্র কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ড্রেসিং টেবিলের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা হলেও প্রকল্পের নথিতে একই ধরনের কিছু ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সিএজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের জন্য মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২১টি টেবিল কেনা হয় প্রতিটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে। এছাড়া ১৫টি টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং ২৯৪টি টেবিলের দাম ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা করে। বাকি অধিকাংশ টেবিলের মূল্যও বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিলের প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। কিন্তু এসব কেনাকাটায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এতে শুধু ড্রেসিং টেবিল কেনাতেই অতিরিক্ত ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একই প্রকল্পে একই ধরনের পণ্যের দামে এত বড় পার্থক্য অস্বাভাবিক এবং এতে প্রচলিত ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়নি। নিরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএজির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের ২০টি ভবন নির্মাণে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে প্রকল্পে বালিশ, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাকাটায় অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে একটি বালিশ কেনা ও তা ভবনের ওপরে পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়, যা দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।

প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ড্রেসিং টেবিল কেনার নামে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব কেনাকাটা সম্পন্ন হয়। তখন প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। যদিও বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও আলোচনা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন কুমার নন্দীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ