বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

সংসদ ভবনের সাউন্ড প্রকল্পে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, আ’লোচনায় প্রকৌশলী শামছুল

জাতীয় সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পে অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদফতরের ইএম ডিভিশন-৭ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামছুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে অদক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে শামছুল আলম পর্দার আড়াল থেকে পুরো ঠিকাদারি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দেন এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি নকশা বাদ দিয়ে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করেন।

এছাড়া সাধারণ মানের হেডফোন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির দাম বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিম্নমানের ও সস্তা যন্ত্রাংশ বাজার থেকে সংগ্রহ করে প্রকল্পে সরবরাহ করা হলেও কাগজে-কলমে সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই অদক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও পড়তে শুরু করেছে। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে সংসদ অধিবেশন চলাকালে বারবার সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। স্পিকারের মাইক্রোফোন থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যদের অডিও প্যানেলেও গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অধিবেশনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্পিকারকে একাধিকবার অধিবেশন মুলতবি করতে হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়েও শামছুল আলম যেভাবে কারিগরি সিদ্ধান্ত ও কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তা বিস্ময়কর। তার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামছুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় এমন অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শামছুল আলমসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ