
মাগুরায় মাদক নির্মূলে কাজ করার কথা থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা, মাসোয়ারা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দপ্তরটির বিরুদ্ধে।
মাগুরা ডিএনসিতে যোগদানের পর থেকেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন পরিদর্শক সাহারা খাতুন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জেলায় নিজস্ব একটি ‘বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন যারা নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা উত্তোলন করে। নারী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন। এর আগেও একাধিক অভিযোগের কারণে তাকে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরে বদলি করা হয়েছিল। মাত্র ৫-৬ মাস আগে মাগুরায় যোগ দিয়েই তিনি পুনরায় পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় করেছেন বলে জানা গেছে।
গত রোববার মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এক অভিযানে সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে ডিএনসি দল আকুব্বর মোল্লা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘুমন্ত আকুব্বরকে হাতকড়া পরিয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাহারা খাতুনসহ অভিযানকারী দলকে ‘ডাকাত’ সন্দেহে গণধোলাই দেয়।
সূত্রের দাবি, আকুব্বর মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় ডিএনসির দায় এড়াতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. আহসানুর রহমান মাগুরায় ছুটে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মুখ বন্ধ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দীন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে, সাহারা খাতুন মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির একটি বড় অংশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত পৌঁছে দেন। একারণেই বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
মাগুরা ডিএনসির এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মাদক নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে আকুব্বর মোল্লার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
@Durnitirdiary

