
রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় অবস্থিত মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলের দনিয়া ভূমি অফিস এবং ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি অফিস এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই দুই অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দনিয়া ও মাতুয়াইল ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও রেকর্ড রুমে দালালদের অবাধ যাতায়াত। ভূমি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সরাসরি সহযোগিতায় এই দালাল চক্র পর্চা ও খতিয়ানের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট দালাল ছাড়া সরাসরি কোনো কাজ করতে গেলে ফাইল আটকে রাখা বা নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।
অফিস দুটির অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্যের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় বহিরাগত দালাল ও সন্ত্রাসীরা। চিত্র ধারণের সময় তারা সাংবাদিকদের বাধা দেয় এবং ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়।
সার্বিক অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে কর্মকর্তা সঞ্জীবের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরা দেখে ভড়কে যান এবং কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ সময় ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান অত্যন্ত উত্তেজিত ও মারমুখী আচরণ করেন, যা ভিডিওচিত্রে ধরা পড়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর আগেও বাড্ডায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখনো তিনি স্থানীয় লোকজনকে লেলিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ কুড়িয়েছিলেন। বর্তমান কর্মস্থলেও তিনি একই কায়দায় দালাল ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই অফিসে প্রতিটি সেবার বিপরীতে অঘোষিত রেট চার্ট নির্ধারিত আছে। দালালের মাধ্যমে টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরেও কোনো সেবা মেলে না। এসব বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, ভূমি সেবাকে দালালমুক্ত করতে এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান ও সঞ্জীবসহ সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
@durnitirdiary

