
গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল, ঢাকা-এর উচ্চমান সহকারী মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল, অবৈধ আবাসন ব্যবসা এবং নজিরবিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী ‘দুর্নীতি সিন্ডিকেট’। সরকারি কোয়ার্টার, দোকান ও ক্যান্টিনকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস বানিয়ে তিনি সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক কেন্দ্রীয় সচিবালয় (এনএসআই) ভবন সংলগ্ন এলাকার ৫১টি ঘর তাজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘরগুলো থেকে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ভাড়া আদায় করেন, যার কোনো অংশই সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। এছাড়া রাজারবাগ এলাকায় সরকারি কোয়ার্টার দখল করে এক বছর সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় কাটানোর পর বর্তমানেও তার দখলে রয়েছে ৩টি বাসা। সেখান থেকে তিনি মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। বছরের পর বছর এই আবাসন বাণিজ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ত ভবনের সাধারণ কর্মীদের কাছে তাজুল ইসলাম এখন ‘চাঁদাকরাজ’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ আছে, অধিদপ্তরের ক্যান্টিন বরাদ্দ দেওয়ার সময় তিনি ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ওই ক্যান্টিন থেকে নিয়মিত মাসিক ৩৫ হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করছেন তিনি। সরকারি সম্পদকে পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে তিনি ও তার সহযোগীরা এই লুটতরাজ চালাচ্ছেন।
তাজুলের এই অবৈধ আয়ের সাম্রাজ্য কেবল দখলদারিত্বে সীমাবদ্ধ নেই। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে রাজধানীর নন্দীপাড়ায় ১০ কাঠা জমি কিনে একটি বিশাল বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন তিনি। এই নির্মাণকাজে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে মফিজ ও আলী হুজুর নামে দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এই ত্রয়ীর সিন্ডিকেটই মূলত গণপূর্ত এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে।
আদালতের জায়গাও রেহাই পায়নি
তাজুল ইসলামের দখলদারিত্বের থাবা থেকে রেহাই পায়নি বিচার বিভাগের প্রশাসনিক এলাকাও। ‘প্রথম কোর্ট অব সেটেলমেন্ট’ এলাকায় আদালতের গাড়িচালকদের জন্য নির্ধারিত দুটি কক্ষ তিনি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, যা আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এছাড়া ২০১১ সাল থেকে ১ম ১২ তলা ভবনের পূর্ব পাশের একটি টিনশেড দখল করে থাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ সরকারের প্রায় ২২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
গত ৩০ মার্চ ২০২৩ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাজুল ইসলামের এসব অনিয়মের বিস্তারিত উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই প্রকাশ্য লুটতরাজ বন্ধে এবং অভিযুক্ত তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল। আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করা না গেলে এই দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

