
অনিয়ম-দু’র্নী’তিই যেন জেলা প্রশাসক মাসউদের ‘নিয়ম’
জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার কাঁধে, তার বিরুদ্ধেই উঠেছে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ। এমন অভিযোগের তীর ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের দিকে। বিভিন্ন মহলের দাবি, তার আমলে প্রশাসনে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্য বিদায়ি ইএনওর একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এরপর থেকে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মন্দির-মসজিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা। নিজের সরকারি বাসভবনে বসে নানা অনিয়মের পরিকল্পনা তৈরি করে।
মসজিদ-মন্দিরের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিতে নানা ধরনের ফন্দি আঁটে। তিনি যোগ দেওয়ার পর জেলায় একাধিক মবের ঘটনা ঘটলেও সবসময় নিশ্চুপ থেকেছেন। গতবছরের ডিসেম্বরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে শহরে মানববন্ধন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক মাসউদ তার কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের ডেকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেন।
সূত্র জানায়, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮টি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চালু করে দেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এ ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ের সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, পিআইও অফিস, বিআরটিএ কার্যালয় থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করে তার নিয়োগকৃত লোকজন। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে শহরের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় যেন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও নারীর প্রতি আসক্তি রয়েছে তার। জেলা প্রশাসনে কর্মরত নারীদের তার ইচ্ছেমতো চলতে হয়।
তার অবাধ্য হলেই তাদের নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়।
এদিকে, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে ছয় লেন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে। নামমাত্র টাকায় শত শত গরীব-অসহায় মানুষের জমি অধিগ্রহণ করে নিয়েছেন। যে সকল জমির মালিক তাকে টাকা দিতে পেরেছেন তাদের জমির মূল্য বেশি দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনে কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, আব্দুল্লাহ আল মাসউদ যখন যা বলবে তখন তাই করতে হবে। সেটা অনিয়ম হোক আর নিয়ম হোক। তার নারীদের প্রতি অন্যরকম আসক্তি আছে। মাঝে মধ্যেই তিনি আমাদের অফিসের পছন্দের কয়েকজন নারী কর্মকর্তাদের সার্কিট হাউস ও তার সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান। আমরা ভয়ে এসবের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারি না।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘ঝিনাইদহে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। শুনেছি তার হাত নাকি অনেক লম্বা। ফলে কেউ তার কিছু করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি এক নারী ইউএনওর প্রতি যে আচরণ তিনি দেখিয়েছেন, সেটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। তবে এভাবে যদি একজন জেলা প্রশাসক তার দায়িত্বরত দপ্তর পরিচালনা করে, সেটা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। তাই শিগগিরই এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

