শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

ইবিতে অনিয়ম দুর্নীতির তদন্তে বাধা, কমিটিকে অসহযোগিতার অভিযোগ

বিগত আওয়ামী শাসনামলে নিয়োগ সংক্রান্ত সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধানে কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কমিটি গঠনের আট মাস পেরোলেও জমা হয়নি প্রতিবেদন। এদিকে কমিটির অভিযোগ, তথ্যানুসন্ধানে বিভিন্ন দপ্তরে আওয়ামীপন্থিদের অসহযোগিতা ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এমনকি সাবেক উপাচার্যদের লকারের সিক্রেট ফাইলসহ অধিকাংশ ফাইলেরও হদিস মিলছে না বলে জানা গেছে। তবে চলতি মাসেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক।

জানা যায়, বিগত ১৫ বছরের নিয়োগ সংক্রান্ত সব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধানে গত ১৬ মার্চ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে প্রশাসন। কমিটিকে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মার্চ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের তথ্য অনুসন্ধান করে ৯০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

তবে প্রায় আট মাসেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। গত আগস্ট মাসে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দেয় কমিটি এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের জন্য ওই কমিটি চারটি ভাগে বর্ধিত করা হয়।

 

 

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত সব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধানে বিগত সময়ের মিডিয়ার তথ্য, অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেট রেজুলেশন বা অফিসিয়াল ডকুমেন্টস এই তিন প্রক্রিয়ায় তদন্ত কাজ শুরু করেন কমিটি। তবে তথ্যানুসন্ধানে বিভিন্ন রকমের বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। এর মধ্যে বিগত উপাচার্যের লকারের সিক্রেট ফাইল গায়েব, বিভিন্ন দপ্তর থেকে অসহযোগিতা ও ফাইল গায়েব এবং নথি সন্দেহজনকভাবে কাটা ছেড়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে কমিটি। ফলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শক্ত ডকুমেন্টস সংযুক্ত করতে পারছে না তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর, সংস্থাপন শাখাসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ তথ্য দিতে অসহযোগিতা করছেন বলে জানান তারা। এছাড়া এই তদন্তে বিগত সময়ের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন তারা।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, আমরা বিগত ১৫ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করেছি। তবে কাজের ক্ষেত্রে অসহযোগিতার মুখে পড়ছি। অনেক তথ্যই আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। বেশিরভাগ তথ্যই লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে। যার কারণে একটু সময় লাগছে। আশা করছি এই মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে আমাকে এখনো অবগত করেনি। তারা আমাকে অফিসিয়ালি জানালে সেসব দপ্তর ও অফিসের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

@dainikshiksha

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ