
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, তাঁর স্ত্রী নীলুফার জাফর উল্যাহ, দুই ছেলে কাজী ওমর ফারুক ও কাজী রায়হান জাফর এবং মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের আয়কর বিবরণীর কপি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) সরবরাহের জন্য কর বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
সিআইডি’র আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার কর অঞ্চল-৮ কে এ নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
সিআইডি পুলিশের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের এসআই দীপ্তা রায় আয়কর বিবরণীর কপি সরবরাহ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতারণা, জালজালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটন করে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়াও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কাজী জাফর উল্লাহ এবং তাঁর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযুক্তের ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আয়কর নথি বিবরণী ও এর সঙ্গে থাকা আনুষঙ্গিক কাগজপত্র আলোচনা একান্ত আবশ্যক।
আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে গুলশানের বাসা থেকে জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে পুলিশ। সুস্থ হওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পল্টন থানার এক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

