
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. মো. সাজেদুল করিমের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের নথির বরাত দিয়ে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি শনিবার (৩১ অক্টোবর) জানিয়েছে, গবেষণার জন্য নেওয়া প্রকল্পের অর্থের বড় অংশ গেছে ভবন নির্মাণ ও কেনাকাটায়, আর গবেষণা খাতে ব্যয় হয়েছে সামান্যই।
ব্যয়ের চিত্র
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে:
- ভবন নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ ও ভারী সরঞ্জাম কেনায় ৮১ কোটি ২৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ;
- গবেষণা ও ফেলোশিপ খাতে মাত্র ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, মোট ব্যয়ের প্রায় ৬ শতাংশ;
- পোল্ট্রির খাবার ও ফিড অ্যাডিটিভস কেনায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা গবেষণা খাতের অনুমোদিত বরাদ্দের (৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা) প্রায় দ্বিগুণ;
- বিদেশে প্রশিক্ষণের ১ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকা।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয় এবং বাজেট বাড়ানো হয় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বিলম্বের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে নেই বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
স্ত্রীকে ফেলোশিপসহ অভিযোগ
প্রতিবেদনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ পিডির স্ত্রীকে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ দেওয়া নিয়ে। পত্রিকাটির দাবি, জাতীয় দৈনিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এ ফেলোশিপ দেওয়া হয়, এবং ২০২২ সালের একটি সরকারি তদন্তেও বিষয়টি উঠে আসে। বিএলআরআইয়ের স্থায়ী কর্মকর্তা না হয়েও তিনি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাতা পেয়েছেন এবং ফেলোশিপ খাতের প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থ তাঁর কাছেই গেছে বলে অভিযোগ।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে:
- প্রশিক্ষণ কোর্সে পিডি নিজে নির্দেশক থেকে সম্মানীর বিনিময়ে একাধিক সেশনে প্রশিক্ষক ছিলেন, তাঁর স্ত্রীকেও সম্মানীভিত্তিক প্রশিক্ষক রাখা হয়;
- একজন জুনিয়র ট্রেনিং সহকারী ও একজন হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে ভুয়া দোকানের নামে কোটি কোটি টাকার সরবরাহ ভাউচার তৈরি করা হয়;
- দরপত্র ছাড়াই সাড়ে ৩ কোটি টাকার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজ দেওয়া হয়;
- গবেষণাগারে জায়গা না থাকা সত্ত্বেও ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় চারটি ইনকিউবেটর কেনা হয়;
- প্রকল্পের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএলআরআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি পিডির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা ও ফেলোশিপ বিতরণের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিডির বক্তব্য
প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পত্রিকাটিকে তিনি বলেন, প্রচলিত বিধি মেনে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই প্রকল্পের সব কাজ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সুবাদে দায়িত্ব পাওয়া ও স্ত্রীর ফেলোশিপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেননি বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই। অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়; এসিএম প্রকল্পের নথি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

