
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাস ও আনস্টাফিং কার্যক্রম ঘিরে সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর কাউসার এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়, ফাইল আটকে রাখা ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পরও কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে তাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করেছে।
অভিযোগ যা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেট থেকে সপ্তাহে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পণ্য পরীক্ষা করার পরও বাণিজ্যিক পণ্যের ফাইল অনুমতির জন্য সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয় এবং সেখানে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফাইল আটকে রেখে পরদিন আবার পরীক্ষার কথা বলা হয়, সারা দিন অপেক্ষা করিয়ে রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে কাজ স্থগিত করা হয়। পণ্য আটকে রেখে ডেমারেজ চার্জ বাড়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি। ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ভাষ্য, প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর হয়রানি কমেনি, বরং বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পত্রিকাটিকে বলেন, সাধারণ ঘটনাতেও কারণ দর্শানো বা বদলি করা হয়, কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা স্বপদেই আছেন। ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে উচ্চপর্যায়ের কোনো আশ্রয় আছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতারা; তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিন দফা দাবি
- এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ;
- নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে স্পর্শকাতর দায়িত্ব থেকে সরানো বা সাময়িক বরখাস্ত;
- অনিয়মে কমিশনার বা অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
বক্তব্য মেলেনি
প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ওমর কাউসার ও সুমন কান্তি বিশ্বাস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার কিংবা এনবিআরের কোনো বক্তব্য নেই। এনবিআর বা দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, কিংবা কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি। কোন গেট থেকে কত টাকা কার কাছে গেছে, তার প্রমাণও প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়; তদন্তে বা আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। এসিএম স্বতন্ত্রভাবে অভিযোগগুলো যাচাই করতে পারেনি। অভিযুক্ত বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

