
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় সড়কপথে যাওয়ার একমাত্র পথ বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সিটি ও পৌর টোলের নামে যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে পর্যটক, চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির বুধবারের (২৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পাঁচ জায়গায় টাকা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী প্রতিটি পরিবহনকে মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে টাকা দিতে হচ্ছে:
- বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে সিটি টোল ৫০ টাকা;
- পটুয়াখালী বাস টার্মিনালে ১০০ টাকা;
- আমতলী পৌর টোল ১০০ টাকা;
- কলাপাড়ায় ৫০ টাকা;
- কুয়াকাটা পৌর টোলের নামে ১০০ টাকা।
পত্রিকাটির হিসাবে এতে গাড়িপ্রতি প্রায় পাঁচশ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর পড়ছে বলে পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গাড়িতে যাত্রী থাকুক বা না থাকুক, কিংবা পৌরসভার বাস টার্মিনাল ব্যবহার হোক বা না হোক—টাকা দিতেই হয়। না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং চালক-সুপারভাইজারদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। রসিদ দেওয়া হলেও অনেক সময় তাতে কোনো স্বাক্ষর থাকে না।
অথচ একই পথে গৌরনদী, উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ পৌরসভা পার হতে কোনো টোল দিতে হয় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গৌরনদীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, মহাসড়ক দিয়ে চলা যানবাহন থেকে পৌর টোল নেওয়ার সুযোগ নেই; এটি অন্যায়।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা এ টাকা আদায়ের ভিত্তি ও বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানান। গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির জানান, ২২ অক্টোবর প্রেসক্লাবের সদস্যদের নিয়ে কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি থেকেও পৌর টোল নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, রূপাতলী বাস টার্মিনাল এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু টার্মিনালের বাইরে সড়ক থেকে টোল তোলার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।
আমতলী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, মহাসড়কে টোল আদায় বন্ধে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে; এরপরও কেউ টাকা তুললে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্য লাল চক্রবর্তী বলেন, শুধু কলাপাড়া বাসস্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে, মহাসড়ক নয়; মহাসড়কে বাস থামিয়ে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। কলাপাড়ার ইউএনও এবং কুয়াকাটা পৌরসভার বক্তব্য পত্রিকাটি পায়নি।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাকা আদায়কারী ইজারাদার বা ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই। এসিএম স্বতন্ত্রভাবে অভিযোগগুলো যাচাই করতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

