
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা ইয়াবার বড় অংশ এবং একটি পিস্তল জব্দ তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়াসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির বুধবারের (২৮ অক্টোবর) প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযানে যা ঘটেছিল বলে অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার খ্যাংখালী স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় এসআই কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে পালংখালীর এক ব্যক্তিকে আটক করে। স্থানীয়দের ভাষ্যে তিনি এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, অটোরিকশা থেকে দেড় লাখ পিস (১৫ কার্ড) ইয়াবা এবং একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু উখিয়া থানা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখানো হয় মাত্র ৫০ হাজার পিস ইয়াবা; অস্ত্রের কোনো উল্লেখ নেই। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে চেকপোস্টে অটোরিকশা থামানোর সংকেত দিলে চালকসহ তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন; একজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়, বাকি দুজন পালিয়ে যান এবং চালকের আসনের নিচ থেকে পাঁচ কার্টনে ৫০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকায় না ওঠা প্রায় ১ লাখ পিস ইয়াবা পরে একটি মাদক চক্রের কাছে প্রায় ১ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয় এবং পিস্তলটি জব্দ তালিকায় না তোলার বিনিময়ে আটক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এসআই কিবরিয়ার সঙ্গে একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবলের নামও এসেছে। এসআই কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সীমান্ত এলাকায় কর্মরত থাকার সুবাদে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া এবং স্বজনদের নামে সম্পদ গড়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, সংবাদকর্মী ও বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জসিম আজাদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই জব্দ করা ইয়াবা ও অস্ত্র গোপনের অভিযোগ উঠলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি মাঠে কতটা কার্যকর, সে প্রশ্ন থেকে যায়।
পুলিশের বক্তব্য
পত্রিকাটি জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগগুলো পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলে এসআই কিবরিয়া প্রথমে সাড়া দেননি। পরে ফোনে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, “এ বিষয় নিয়ে অনেক কল পাচ্ছি। আপনারা তদন্ত করে যা পান, তা লিখুন।”
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, তিনি চার দিন ছুটিতে ছিলেন; ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা সরবরাহের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ অভিযান চালালেই এ ধরনের অভিযোগ ওঠে বলে অনেক কর্মকর্তা ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখান; তবে বর্তমান অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়; এসিএম স্বতন্ত্রভাবে এসব যাচাই করতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

