বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬

স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ২০ দিন দায়িত্বে, ২০ লাখ টাকার বিলে স্বাক্ষরের অ’ভিযোগ সাবেক তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলির আদেশ অনুযায়ী ২০ মে থেকে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু আল হাজ্জাজের কর্মস্থল ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি আরও প্রায় ২০ দিন দায়িত্বে থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে না এলেও তার আপ্যায়নের নামে এক লাখ টাকার বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।

চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসক সংকট, নোংরা পরিবেশ, নিম্নমানের খাবার এবং ওষুধ চুরির অভিযোগে আগে থেকেই আলোচিত লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবার কেনাকাটা ও আপ্যায়নের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (পার-২ শাখা) যুগ্মসচিব সনজীদা শরমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ডা. আবু আল হাজ্জাজকে লালমনিরহাট থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে নীলফামারীর তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশাদ হোসেনকে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নতুন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পদায়ন করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, বদলিকৃত কর্মকর্তাকে ১৯ মে’র মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ২০ মে থেকে তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডা. আবু আল হাজ্জাজ ২০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত লালমনিরহাট হাসপাতালেই দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করেন। ক্রয়-সরবরাহ, বিভিন্ন সেবা, ট্রাক ভাড়া এবং নাস্তা বাবদ ব্যয়ের নামে বিপুল অঙ্কের বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বিলের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বিল-ভাউচারে পূর্বের তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর একটি বাতিল হওয়া হাসপাতাল সফরকে কেন্দ্র করে। গত ১১ এপ্রিল মন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনের কর্মসূচি থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি সফর বাতিল করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সফর বাতিল হলেও মন্ত্রীর আপ্যায়নের জন্য নাস্তা ও মধ্যাহ্নভোজের নামে এক লাখ টাকার বেশি বিল উত্তোলন করা হয়। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে প্রায় ৯২ হাজার টাকার ওই বিলের বেশিরভাগ ব্যয় রংপুরে দেখানো হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার পরও বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. আবু আল হাজ্জাজ বলেন, “বদলির আদেশ তো হয়নি। সরকারি ওয়েবসাইটেও দেখিনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। রিলিজ আমি নেব। ৯ জুন বিষয়টি আপডেট জানার পরই রিলিজ নেওয়ার কথা বলেছি।”

তবে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার পরও বিপুল অঙ্কের বিল অনুমোদন দিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। গণমাধ্যমের কাছে তার স্বাক্ষর করা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র রয়েছে বলে জানানো হলেও তিনি তা স্বীকার করেননি।

এদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সম্প্রতি হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন। শুরুতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে না আসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ