বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬

সীমানা প্রাচীরের ৪ লাখ টাকার বরাদ্দে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, রং করেই দেখানো হলো পুরো ব্যয়

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে নামমাত্র রং-বার্নিশ ও সীমিত সংস্কারকাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করেই পুরো বরাদ্দের অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পরিবর্তে অফিস ভবনে রং করা এবং অল্প কিছু সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে পুরো বরাদ্দ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থের অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রথমে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে। এরপর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে অন্যান্য সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা যাবে। সব কাজ শেষে কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পেছনের অংশ সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। ফলে অফিস ভবন ও সেখানে সংরক্ষিত মূল্যবান মালামালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া সংস্কারকাজেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। মূলত ভবনে রংয়ের কাজ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মতে নিম্নমানের। তথ্য অনুযায়ী, সংস্কারকাজে ১৮ লিটারের ১০টি ড্রাম, ৪ লিটারের ২০টি গ্যালন এবং ১ লিটারের কয়েকটি কৌটা রং ব্যবহার করা হয়েছে। বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ হিসাব ধরলেও এসব রংয়ের মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকার বেশি নয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, “সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেয়ে অফিস ভবনে রং করা এবং কিছু সংস্কার করা বেশি জরুরি ছিল। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এটিই অগ্রাধিকার মনে হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে সম্পূর্ণ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করাও সম্ভব ছিল না।”

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, নীতিমালা অনুসারেই কাজ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ