বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬

শিবগঞ্জে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আ’ত্ম’সাৎ ও অ’সদাচরণের অ’ভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এএসএম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণে অনিয়ম, নারী কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্লাব শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১৮ ও ২২ জুন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি বরাবর এএসএম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তার অর্থ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্লাব শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ক্লাব শিক্ষকদের দাবি, গত মার্চ মাসে ১৬টি ক্লাবের শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য ৭২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার ৬৮০ টাকা। বাকি ২৭ হাজার ৩২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলামকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলে তিনি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তলব করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনও এপ্রিল ও মে মাসের নাস্তার সম্পূর্ণ বরাদ্দ নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে এপ্রিল মাসে প্রতি ক্লাবের জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৪ হাজার ৪০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়। এতে মোট ৬ হাজার ৪০০ টাকা কম দেওয়া হয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের। এছাড়া মে ও জুন মাসের নাস্তার বরাদ্দ এখনো বিতরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত ১৮ জুন কিশোর-কিশোরী ক্লাব ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে সব সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সভার জন্য প্রতি ক্লাবে ৩ হাজার ৬০০ টাকা হিসেবে মোট ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও উপস্থিত অনেককে সম্মানী দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ জুন মোবারকপুর নিরালা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত কিশোর-কিশোরী ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি নাজরিন বেগমের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং অসদাচরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। এ ঘটনার বিচার চেয়ে নাজরিন বেগম গত ২২ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ পৌরসভা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের প্রবীণ শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পরও অন্যায়ভাবে তার এক দিনের বেতন কেটে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এএসএম ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। যেহেতু এটি একটি প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিষয়, তাই ভুক্তভোগীদের প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নিলে সেটিও যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ