
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাবেক কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে সাইবার অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকলেও তিনি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় নানা অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।
সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের উৎস এবং অর্জনের বৈধতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তার ও স্বজনদের নামে জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাইবার কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ
নাজমুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অনৈতিকভাবে নজরদারি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ
বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অভিযোগ, অতীতে কিছু আলোচিত মামলার তদন্ত ও চার্জশিট প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলায় অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পর্যায়ে অনুসন্ধান চলছে। কিছু অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তের দাবি
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নাজমুল ইসলাম সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

