
সরকারি চাকরি জীবনে কেরানি পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী কাস্টমস কমিশনার হিসেবে অবসরে যাওয়া মো. আলতাফ হোসেন মিয়ার বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা আইনি অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে অবসরে যাওয়া আলতাফ হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে সর্বশেষ ২০২৩ সালে দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো তদন্ত হয়নি। এমনকি অভিযোগপত্রের অগ্রগতি সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীতে একাধিক ভবন ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর কদমতলী এলাকার নূরপুর ও পলাশপুর এলাকায় আলতাফ হোসেন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বহুতল ভবন রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তোপখানা রোডের বিএমএ ভবনের মেডিকেল সামগ্রী মার্কেটে তার নামে কয়েকটি বাণিজ্যিক দোকানের তথ্যও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। তবে সম্পদের প্রকৃত মূল্য ও মালিকানা যাচাইয়ের জন্য সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবারের সদস্যদের নামেও সম্পদের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজ জেলা শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের নামে জমি, দোকানপাট এবং কৃষিজমি ক্রয় করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের উৎস ও অর্জনের বৈধতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চাকরি জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব
আলতাফ হোসেন মিয়া চাকরি জীবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল বন্দর এবং কর কমিশনার কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব পদে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বক্তব্য দিতে অপারগ অভিযুক্ত কর্মকর্তা
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আলতাফ হোসেন মিয়া নিজেকে অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মত
দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর সম্পদ থাকা অপরাধ নয়। তবে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।
তদন্তের দাবি
সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

