সোমবার, জুন ৮, ২০২৬

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

যশোরের শার্শায় পুলিশ সদস্যকে মারধরের মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে জনতার বাধার মুখে পড়েছে পুলিশ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে পুলিশের হেফাজত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ।

৪ জুন বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল বিকেলে শ্যামলাগাছি গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তারা মোস্তফা কামাল মিন্টুকে তার বাড়ির সামনের একটি মোড় থেকে আটক করে। পরে তার সমর্থকেরা গ্রামের কয়েকটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষণার পর কয়েকশ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে জনতার চাপে আটক মোস্তফা কামাল মিন্টুকে রেখেই পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হয় যে মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এরপর গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে এসে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা মামুন হাসান জুয়েল বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদর দপ্তরে নায়েক পদে কর্মরত। ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি করা হয় মোস্তফা কামাল মিন্টুকে। অন্যান্য আসামিরা হলেন লাল্টু হোসেন, পিন্টু হোসেন, সুজন হোসেন, সবুজ হোসেন ও টিটন হোসেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মামুন হাসান মোটরসাইকেলে করে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তার পথরোধ করে। পূর্ববিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, মামুন হাসানের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, আসামিদের ভয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না।

মামুন হাসানের চাচা সফিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, তাদের পারিবারিক বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বালু বিক্রিতে বাধা ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত হয় এবং এর জের ধরে তার ভাতিজার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তফা কামাল মিন্টু। তিনি বলেন, “পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমাকে রাজনৈতিক ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ আমাকে আটক করতে এলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়েছে।”

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তারের সময় জনতা মব সৃষ্টি করে। পরে তারা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মোস্তফা কামাল মিন্টু শার্শা ইউনিয়নের বড় কোনা বাওড়ের ইজারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প নেওয়ার ঘটনায়ও বিতর্কের মুখে রয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ