
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নরসিংদী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া একটি অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নরসিংদী জেলা কারাগারের উন্নয়ন প্রকল্পের একটি কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার পর কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিপুল অঙ্কের বিল পরিশোধ করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মূল্যায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন ও মেরামত কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। কিছু টেন্ডারে সীমিত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের পর ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি স্থাপনার জরুরি মেরামত কাজ এবং জেলা সদর হাসপাতালের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, নরসিংদীতে যোগদানের আগে ভোলা বিভাগে দায়িত্ব পালনকালেও এ এস এম মুসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা।

