শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

এলজিইডির সাবেক প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, টেন্ডার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন কমিশন গঠনের পর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর সরকারি চাকরির অবসরের প্রস্তুতিকালীন ছুটি (পিআরএল) ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। এদিকে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসংক্রান্ত একটি ফাইল স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের দফতরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, পিআরএলে যাওয়ার আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এছাড়া কনসালটেন্ট নিয়োগ, বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রম এবং প্রকল্পভিত্তিক জনবল নিয়োগে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে বেতন উত্তোলন এবং প্রকল্পের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের প্রকল্পের জনবল হিসেবে দেখানোর অভিযোগও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।

এমজিএসপি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এমজিএসপি প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে উদ্বৃত্ত অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের অর্থ ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি কেনা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

দুদকের বক্তব্য

এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা আজিজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্পদ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ ও কনসালটেন্সি-সংক্রান্ত নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন কমিশন গঠন হলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা

উল্লেখ্য, প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো দুদক কোনো চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে অনুসন্ধান শেষে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ