
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রশাসনিক শাখার সাবেক উচ্চমান সহকারী এবং বর্তমান এস্টেট পরিদর্শক (এ ও ভূ-২) ফারুক হোসাইন মালুমের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন নথি ও অনুসন্ধানে রাজধানীর গুলশান ও উত্তরাসহ একাধিক এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মূল্যবান আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন রাজউকে উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকার পর গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফারুক হোসাইন মালুম এস্টেট পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির পর তিনি রাজউকের আওতাধীন জমি, ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তদারকির ক্ষমতা ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
গুলশান ও উত্তরায় একাধিক সম্পদের তথ্য
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, গুলশান-১ এর রোড নম্বর ২১-এর একটি ভবনের ‘১/বি’ নম্বর ফ্ল্যাট তার দখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
এছাড়া উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে একাধিক আবাসিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সেক্টর-৩-এর ১৪ নম্বর রোডের একটি বাড়ি বর্তমানে তার ব্যবহারে রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সেক্টর-১-এর ১৬ নম্বর রোডের একটি ভবনে তার নামে বা বেনামে চারটি ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ রয়েছে। উত্তরার সেক্টর-৭-এর ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক সম্পদের অভিযোগ
আবাসিক সম্পদের পাশাপাশি রাজউক ট্রেড সেন্টারের ১৮ ও ৩৮ নম্বর দোকান তার ভাই ও পরিবারের সদস্যদের নামে নিবন্ধিত রয়েছে বলে অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর দাবি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এসব দোকানের আর্থিক মূল্যও উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে
তদন্তের দাবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস সংক্রান্ত তথ্য দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ফারুক হোসাইন মালুমের সম্পদের উৎস নিয়ে রাজউকের অভ্যন্তরে ও বাইরে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্যতা পরীক্ষা করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

