
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার একটি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সরবরাহে গুরুতর বিভ্রান্তির ঘটনা ঘটেছে। প্রমোদা সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার হলে তাৎক্ষণিকভাবে চাঞ্চল্য ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
১০ মে দুপুরে প্রমোদা সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের ২০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় দৌলতপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষার শুরুতেই তাদের হাতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসভিত্তিক এমসিকিউ অংশের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২৫ মিনিট পরীক্ষা চলার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বুঝতে পারেন যে, শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্রশ্নপত্র বর্তমান শিক্ষাবর্ষের নয়।
ভুলটি ধরা পড়ার পর তড়িঘড়ি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওই প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত আরও ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরীক্ষা নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা শেষ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শিক্ষার্থীদের পুরো ঘটনা বাইরে প্রকাশ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সরবরাহের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা মূলত এ ঘটনার জন্য দায়ী।
অন্যদিকে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রসচিব মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রসচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষায় এ ধরনের দায়িত্বহীনতা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

