
দীর্ঘ ১৫ বছরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)–এ নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ ও পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসিতে গাড়িচালক থেকে শুরু করে পরিচালক, কমিশনার ও পরামর্শক পদ পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়োগে আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বয়সসীমা শিথিল করে এবং মঞ্জুরিবিহীন পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে এবং আইন অনুযায়ী দুদকের টিম বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে অগ্রগতি হলে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তদন্তেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়া ২৯ কর্মকর্তার মধ্যে অন্তত ১৫ জনের নিয়োগে অনিয়ম ছিল এবং কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়োগ ও পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি ব্যবস্থা দুর্বল করেছে।

