
সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার সরেজমিনে তদন্তে যান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনুদ্দিন কাদির।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ এপ্রিল তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়। একাধিক সূত্র জানায়, মাত্র ৯ বছরের চাকরিজীবনে জাকির হোসেন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে জামালপুর, সিলেট ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি কর্মস্থলেই ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের মধ্যে তিনি ‘ম্যানেজ মাস্টার’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে একটি ‘প্রটেকশন সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলে তিনি তার অবস্থান শক্তিশালী করেন। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দলিল লেখক কাজী ফরহাদ হোসেন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে জাকির হোসেন দলিলে ত্রুটি দেখিয়ে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
অন্যদিকে, সাভারের বাসিন্দা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, একটি ফ্ল্যাট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান চাইতে গেলে সাব-রেজিস্ট্রার তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং অফিস থেকে বের করে দেন।
দলিল লেখক সমিতির নেতারা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে সাভারে যোগদানের পর থেকেই জাকির হোসেন নির্দিষ্ট কিছু লোক ছাড়া অন্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এমনকি অফিসে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। অন্যান্য দলিলেও সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় তার একটি ফ্ল্যাট ও একটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট থেকেও তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে, যদিও সে বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতি স্পষ্ট নয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. মঈনুদ্দিন কাদির জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, একই ধরনের অভিযোগে এর আগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এবার কি হবে ব্যবস্থা, নাকি আবারও ‘ম্যানেজ’?
#BreakingNews #Savar #Corruption #Bangladesh #Investigation

