বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

১৫ লাখ টাকা আত্মসাত, বরখাস্ত হয়েও ফের চাকরিতে!

ভূমি উন্নয়ন করের বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কুশদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন একাধিক দফায় প্রায় ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা কৌশলে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।

গাজীপুর-২ হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কার্যালয়ের একটি বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ২১ মে এবং ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দাখিলার প্রজার কপি ও কার্বন কপিতে (৩ নম্বর রেজিস্টার) গরমিল করেন।

প্রতিবেদনের ‘পরিশিষ্ট ক’ ও ‘খ’ অনুযায়ী, নরোত্তমপুর, লোহাদিয়া ও বাঘুয়াসহ প্রায় দুই শতাধিক মৌজার ২৬৩টি জোত থেকে আদায়কৃত করের একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

হিসাবে কারচুপির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময়ে ১,৯৭,৫৬৫ টাকা, ১৩,৩০,৭৪৩ টাকা, ১,১০২ টাকা এবং ৩,৩৬৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাধারণ ভূমি কর্মকর্তা হয়েও কামরুজ্জামান বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকায় নূরজাহান টাওয়ারে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া একই এলাকায় তার নামে অন্তত ১০ কাঠার একটি প্লট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমি অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে একাধিকবার সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও অদৃশ্য প্রভাবের কারণে তিনি পুনরায় চাকরিতে বহাল হন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে কামরুজ্জামান ফোন রিসিভ করেননি।

তবে সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ নয় বরং নথিপত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চলছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ