
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমানকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, কর্মজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় তিনি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব খাটাতেন। পণ্য ছাড়, মূল্যায়ন কিংবা ভ্যাট সংক্রান্ত নানা জটিলতা তৈরি করে পরে তা সমাধানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এসব লেনদেন পরিচালিত হতো বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ দেশের ভেতরে না রেখে বিদেশে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে স্থানান্তর করা হতো। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে তার পরিবারের নামে একাধিক বাড়ি ও ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সূত্রগুলো আরও জানায়, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। এই নেটওয়ার্কে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন, যারা বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং বিদেশে পাঠানোর কাজে সহায়তা করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ব্যবসায়ী ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলা হতো।
এছাড়া স্বর্ণ চোরাচালান, আমদানি-রপ্তানিতে অনিয়ম এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর মতো অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বড় অংশ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অভিযোগ নতুন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

