
জামালপুর শহরের নতুন হাইস্কুল জামে মসজিদের ইমামের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন জেলা যুবদলের সদস্য ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ কালু এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা।
জানা গেছে, প্রায় ১৯ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আলাউদ্দিন। গত ৫ আগস্টের পর মসজিদ পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করা হলে সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে অভিযুক্ত দুই নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই তারা মসজিদে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের একটি দোকান দখল করে সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার, মসজিদের আয়ের ভাগ দাবি এবং মুসল্লিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে, ইমামের অভিযোগ—চাঁদা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল মোমেন আকন্দ কাউসারের নেতৃত্বে একটি দল মসজিদে গিয়ে ইমামের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এমনকি তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফেসবুক আইডি থেকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেওয়ানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারেক চৌধুরী বলেন, “অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বাঁশ নিয়ে মারতে এলে মুসল্লিরা প্রতিহত করে। এখন প্রশ্ন—কার কাছে বিচার চাইব?”
অভিযুক্ত জুয়েল রানা দাবি করেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি। অপর অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ কালুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

