Monday, August 17, 2026

আনোয়ারায় একই চেয়ারে তিন বছরের বেশি মৎস্য কর্মকর্তা, ৭,৭৪৪ মৎস্যজীবীর তালিকা যাচাই ও প্রকাশের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক একই পদে তিন বছরের অধিক সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দায়িত্বকালে প্রকৃত মৎস্য চাষীরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগও উঠেছে।

একই সঙ্গে মৎস্যজীবী হিসেবে নিবন্ধিত ৭ হাজার ৭৪৪ জনের তালিকা যাচাই করে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিবন্ধিত তালিকায় প্রকৃত মৎস্য চাষীদের পাশাপাশি ভিন্ন পেশার অনেকের নাম রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ কারণে তালিকাটি পুনঃযাচাই করে প্রকৃত মৎস্য চাষীদের পৃথক তালিকা প্রকাশের দাবি উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন মৎস্য চাষী ও স্থানীয় বাসিন্দা। মৎস্য চাষী সৈয়দ ফরমান লিখেছেন, তিনি নিজেও একজন মৎস্য চাষী। বারবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো সরকারি তালিকাভুক্ত হতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুস ছবুর নামে একজন মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তৈরি করা কথিত তালিকায় প্রকৃত মৎস্য চাষীদের সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জিয়াউর রহমান নামে একজন অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে তৈরি করা তালিকায় অনেক অযোগ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে এবং তারা এখনো সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন। ফরহাদুল আলম নামে আরেকজন দাবি করেন, ৭ হাজার ৭৪৪ জনের তালিকার মধ্যে অন্তত ৪ হাজার জন অন্য পেশার হতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তালিকা সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। ফজলুল মুবিন চৌধুরী বলেন, নিবন্ধিত মৎস্য চাষীদের তালিকাটি অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে।

এদিকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া এবং একই উপজেলায় একজন কর্মকর্তার দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হকের কাছে তিনটি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয় না কেন, বিতর্কিত বা রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ফ্যাসিস্ট সাংবাদিকদের এখনো কীভাবে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে এবং একই উপজেলায় তিনি তিন বছরের অধিক সময় ধরে কীভাবে কর্মরত রয়েছেন। জবাবে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, জি ভাই, আপনি অফিসে আইসেন, বিস্তারিত কথা বলব।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ৭ হাজার ৭৪৪ জনের তালিকায় প্রকৃত মৎস্য চাষী কতজন এবং ভিন্ন পেশার কতজন রয়েছেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও তালিকা যাচাইয়ের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ