Monday, August 17, 2026

চিলমারী নৌ-বন্দরে বালু উত্তোলন ও চাঁ’দা’বা’জির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় দোকান উচ্ছেদের দাবি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চিলমারী নৌ-বন্দরকে ঘিরে অবৈধ বালু উত্তোলন, ঘাট ইজারা এবং শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায়/বর্মন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং চিলমারী থেকে জোড়গাছ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘাটে মাঝি, নৌ-শ্রমিক ও বালগেট থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ঘাট ইজারার ক্ষেত্রেও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কথিতভাবে অর্ডার দিয়ে থাকেন এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘাট পয়েন্টে নৌযান ও শ্রমিকদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিলমারীর রমনা ঘাটের নিম্নআয়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুলি, পান-চায়ের দোকানদারসহ ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারলে বা অস্বীকৃতি জানালে দোকান উচ্ছেদ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ধরনের চাপ ও চাঁদাবাজির কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা হারিয়েছেন। এতে নিম্নআয়ের কয়েকটি পরিবার কর্মসংস্থান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পুতুল চন্দ্র রায় নিজেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তার প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না বলেও তারা দাবি করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান এবং বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত চিলমারী থেকে প্রত্যাহার এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায়/বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে তার উচ্চবাচ্যও হয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে বালু উত্তোলন, ঘাট ইজারা, অর্থ আদায় এবং দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ