শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

জিনের বাদশা’ আবু বকর অবৈধ সম্পদেও বাদশা

বকরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় আবু বকর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে ৬০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি নগদ টাকা নিয়ে বাসায় গেলে ওই টাকা ডলারে কনভার্ট করে দিতে বলেন। শামসুজ্জামান স্বীকারোক্তিতে বলেন, আবু বকরকে ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার দেন। এতে বদলে যায় তদন্ত কর্মকর্তা। শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপপরিচালক গোলাম মাওলাকে। এই কর্মকর্তাও বিভিন্ন সময় শামসুজ্জামান ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন। টাকা পেয়ে গোলাম মাওলা তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশসহ কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও এ ধরনের তথ্য জানিয়েছেন।

আবু বকর তার দুর্নীতির সিন্ডিকেটভুক্ত করেছেন দুদকের একাধিক পরিচালক, মহাপরিচালক ও কমিশনারকেও। এখনো দুদকের একজন কমিশনারের সঙ্গে সখ্য রয়েছে তার। তিনি ওই কমিশনারের ক্যাশিয়ার বা কালেক্টর হিসেবেও কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবসর গ্রহণের পরও ওই কমিশনারের মাধ্যমে আবু বকর এখনো দুদকে তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

আবু বকরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক কমিশন সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

আবু বকরের বেশুমার দুর্নীতির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কারবিষয়ক কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকর্তাদের জন্য দুদকের যারা সৎভাবে কাজ করতে চান, তারা সবসময় কোণঠাসা হয়ে থাকেন। যেখানে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা দুদকের নিজস্ব ম্যান্ডেট, সেখানে সেই অপরাধ দুদক কর্মকর্তা নিজেই করেছেন। এই কাজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এটাকে তারা অবৈধ সম্পদ বিকাশের সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে এক ধরনের মধ্যস্থতা বা দালালির মাধ্যমে তারা অবৈধ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। এটা তারই বড় উদাহরণ। অবসরে গেলেও তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকর্তাকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ প্রবাদে যে কথাটা বলা হয়, তার একটি প্রকট দৃষ্টান্ত হচ্ছে এই আবু বকরের বিষয়টি। সাধারণ মানুষের ধারণা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুদকের কার্যক্রম ব্যাহত হয়, সেটা যেমন ঠিক, একইভাবে এ ধরনের কর্মকর্তারাই দুদককে আরও বেশি অথর্ব ও অকার্যকর করে রেখেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুদকের সাবেক উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের ভাটারার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন বাড়ির অফিসে তিনি থাকলেও এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পরে কয়েক দফা মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও কোনো উত্তর দেননি।

@news247

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ