
আওয়ামী লীগের সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, রাজধানীর উত্তরায় ৫ কাঠার একটি প্লটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৩ দশমিক ২৯ একর জমি। একই সঙ্গে তার গাড়ি, এফডিআর ও সঞ্চয়ী সনদসহ ছয়টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জব্দ ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৩ টাকা। দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেন। পাশাপাশি তার নামে পরিচালিত ১১টি ব্যাংক হিসাব ও পাঁচটি কার্ড হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদক আরও জানায়, তদন্ত চলাকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে আসামি তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারেন। এমনকি তিনি দেশত্যাগ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব কারণে মামলার স্বার্থ রক্ষায় আদালতের কাছে সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন জানানো হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেন।
@জাগোনিউজ

