
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম। বাবার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ তৈরি করে ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০তম বিসিএস-এ চাকরি পান তিনি। এএসপি থেকে কয়েক ধাপের পদোন্নতি পেয়ে এখন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়েছেন।
চাকরি জীবনে ইতোমধ্যে নিজের নামে এবং স্ত্রী, ভাই-বোন ও শ্যালিকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অঢেল সম্পদ গড়েছেন রফিকুল। শেষ পর্যন্ত পড়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে।
তার বিরুদ্ধে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি সংস্থাটির উপপরিচালক মোহাম্মদ নূরুল হুদাকে প্রধান করে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অপর সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার ও মেহেদী মুসা জেবিন।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, পুলিশ হেড কোয়াটারসহ বিভিন্ন দপ্তরে নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ আজ ১৩ মে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিঠিতে চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত রফিকুল ইসলামের বেতন-ভাতার পরিমাণ, কততম বিসিএস-এর মাধ্যমে যোগদান করেছেন এবং কোন কোটায় চাকরি পেয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত নথিপত্র তলব করা হয়েছে। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এসব নথিপত্র সরবরাহ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কল করে এবং এসএমএস পাঠিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের সাড়া পাওয়া যায়নি।
দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। এমনকি সরকারি জমিও গ্রহণ করেছেন। এছাড়া চাকরির প্রভাব বিস্তার করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশনের অনুমোদনক্রমে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিম সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
রফিকুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪টি জাহাজ, গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের পাশে ৬ হাজার বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, গোপালগঞ্জ সদরে অবস্থিত ৫ কোটি টাকা মূল্যের গ্রামের বাড়ি, ঢাকা ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ভবন ও নিজ নামে জমি। এছাড়া সম্পদ গড়েছেন স্ত্রী ও ভাইদের নামেও। এছাড়া তিনি মানিল্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রচুর অর্থ পাচার করেছেন এবং দুবাইয়ে তার একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে।
@dhakapost

