শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

বরিশালের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নষ্ট কলা ও নিম্নমানের রুটি বিতরণের অভিযোগ

বরিশাল বিভাগের মুলাদী, হিজলা, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া ও ঝালকাঠি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা খাবারে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার যেমন রুটি, ডিম, কলা, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নষ্ট বা অপ্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগের দিন সেদ্ধ করা ডিম, অতিপেকে যাওয়া বা পচা কলা বিতরণ করা হচ্ছে। সকাল ও প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা খাবার পান না, কারণ দুপুরে খাদ্য পৌঁছায়। বানারীপাড়া ও বাকেরগঞ্জের স্কুলগুলোতে এমন অভিযোগ নিয়মিত উঠে আসে। শিক্ষকেরা লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।

বরিশাল-১ প্যাকেজের আওতায় ৮ উপজেলায় ১ হাজার ২৪৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইল্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি ৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে খাবার সরবরাহ করছে। স্থানীয়ভাবে তারা একাধিক এজেন্ট ও সাব-এজেন্ট দিয়ে বিতরণ করছেন। তবে প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষার্থীদের কাছে মানসম্মত খাদ্য পৌঁছানোয় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বর ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে ১৭ নভেম্বর বিতরণ শুরু করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ তিনি শুনেছেন এবং স্থানীয় বিতরণকারীদের দায়িত্ব পরিবর্তন করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া দুধ ও বিস্কুট সরবরাহকারী অন্য কোম্পানি জানুয়ারি থেকে বিতরণ শুরু করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবারের গুণমান অপরিহার্য। নষ্ট বা নিম্নমানের খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শরীরে ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। বনরুটি ও কলা শিশুদের শক্তি ও ভিটামিন যোগায়। তাই বিদ্যালয়ে বিতরণকৃত প্রতিটি খাবার মানসম্মত না হলে কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না।

এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

©দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ