শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

ক্ষমতার জোরে সম্পদের পাহাড়, কারাগারে সাবেক সেই অতিরিক্ত ডিআইজি

বগুড়ায় ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) হামিদুল আলম মিলন জামিন না পেয়ে কারাগারে গেছেন। একইসঙ্গে তার স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে গ্রেফতারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বগুড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন চান। বিচারক মেহেদী হাসান তার আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যে অভিযোগে মামলা

মামলাটি করেন জাহেদুর রহমান তোফা। অভিযোগের মূল বিষয় ডেভেলপমেন্ট চুক্তির আড়ালে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নালিশি সম্পত্তির মালিকের পূর্বের আমমোক্তারনামা বাতিল করে হামিদুল আলম মিলনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেধা এন্টারপ্রাইজের নামে নতুন আমমোক্তারনামা (দলিল নং ৩২৯৭) ইস্যু করানো হয়। এতে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে মিলনের হাতে।

চুক্তি অনুযায়ী, ‘মেধা শাহ ক্যাসেল’ নামে বহুতল ভবন নির্মাণের দায়িত্ব নেন তিনি এবং নির্মাণকালীন মূল্যে বাদীপক্ষকে একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রতি বর্গফুট ১,৫০০ টাকা হিসাব ধরে তিনি বাদীপক্ষের শ্যালকের কাছ থেকে আগাম এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর মিলন চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করেন, সময়ক্ষেপণ করেন এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তর নিয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাননি। প্রকল্পের কাজ বা চুক্তির শর্তাবলি বিষয়ে বারবার জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি স্পষ্ট জবাব দেননি।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চুক্তির সাক্ষী হিসেবে স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপির স্বাক্ষর চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান। বাদীপক্ষের দাবি, এই আচরণ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ায়। তাদের ভাষায় চুক্তি, দলিল ও অর্থ নেওয়া সবই ছিল প্রতারণার ধারাবাহিক কৌশল।

সোমবার ওই মামলায় আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং একই মামলার আসামির স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সারিয়াকান্দির হামিদুল আলম মিলন ছিলেন পুলিশে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ, রেঞ্জ ও সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার কর্মজীবন বিতর্কের মধ্যেই প্রবাহিত হয়েছে। নিয়মিত অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো এবং দায়িত্বের বাইরে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ