রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, এখন তাঁকে এমডি করতে ‘ছল বল কৌশল’

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে এক কর্মকর্তাকে নিয়োগের জন্য ‘ছল, বল ও কৌশলের’ আশ্রয় নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম আব্দুস সালাম ব্যাপারী। তিনি ঢাকা ওয়াসার বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

আব্দুস সালামকে নিয়োগের জন্য একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তির শর্ত। নিয়োগের যোগ্য করতে তাঁকে পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। তারপর কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার ছাড়াই তিনজনের তালিকায় আব্দুস সালামের নাম সবার ওপরে দিয়ে পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।

যদিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি দেখে অনেকে আবেদনও করেছিলেন।

এদিকে মন্ত্রণালয় তিনজনের নামের তালিকাটি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠিয়েছে। সেখান থেকেই নিয়োগ হবে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদগুলোর নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের অনেক অভিযোগ ছিল।

ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে ২০০৯ সালে নিয়োগ পেয়ে ১৫ বছর তা আঁকড়ে থাকেন তাকসিম এ খান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থের অপচয়ের অনেক অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকসিম এ খান আত্মগোপনে চলে যান। গত বছরের ১৪ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন।

ঢাকা ওয়াসায় এরপর আর স্থায়ী এমডি নিয়োগ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সাময়িকভাবে তিনজনকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া। তাঁকেও গত ৩০ অক্টোবর সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে পদটি শূন্য।

অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের ব্যক্তিকে বসানোর জন্যই পদটিতে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে ‘পছন্দের ব্যক্তি’ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিগত সরকারের আমলে তাঁকে প্রায় চার বছর প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করে রাখা হয়, যা অনেকটা জনপ্রশাসনের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখার মতো। অর্থাৎ কোনো কাজ দেওয়া হয় না।

রাজধানীতে পানি সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ঢাকা ওয়াসায় এখন প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে উন্নয়নকাজ চলছে। তাই সেখানে এমডি পদে কে বসলেন, প্রকল্প পরিচালক কে হলেন, তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এসব পদে নিয়োগের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ আগাম লেনদেনের অভিযোগও থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ওয়াসার দুজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আব্দুস সালাম দুর্নীতির অভিযোগে সংযুক্ত ছিলেন। এখন কেন তাঁকে এমডি করা হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। তাঁরা আরও বলেন, ঢাকা ওয়াসার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ কাউকে পূর্ণাঙ্গভাবে এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নজির নেই। কী এমন যোগ্যতা আছে যে আব্দুস সালামকেই নিয়োগ দিতে হচ্ছে?

আব্দুস সালাম তাঁর কার্যালয়ে রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা ওয়াসার কাজে তাঁর মতো অভিজ্ঞ প্রকৌশলী বাংলাদেশে নেই। অন্য কাউকে এই পদে দায়িত্ব দিলে তাঁরা কাজ করতে পারবেন না। কারণ, তাঁদের পানি সরবরাহসংক্রান্ত প্রকৌশল কাজের ধারণা নেই।

চার বছরের বেশি সময় ধরে সংযুক্ত করে রাখার বিষয়ে আব্দুস সালামের ভাষ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকসিম এ খান তাঁকে সংযুক্ত করে রেখেছিলেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ