রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকের

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় দেড় দশক আগে উত্থাপিত অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২৯ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা জিজ্ঞাসাবাদে সংস্থাটির একজন সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান দল অংশ নেয়।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোহাম্মদ রফিকুল আমিনকে তলব করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তিনি উপস্থিত হলে তাকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় প্রায় ১২ বছর কারাভোগের পর গত বছরের ১৫ জানুয়ারি মুক্তি পান রফিকুল আমিন। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থগিত ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার সম্পদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়া হয়। তিনি কিছু নথি জমা দিয়েছেন এবং বাকি নথি জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন।

দুদকের আরেকটি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রফিকুল আমিন তার কারাভোগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার নামে কাগজে-কলমে থাকা বেশ কিছু সম্পদ বর্তমানে অন্যের দখলে রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম অনুসন্ধান শুরু হয় ২০১২ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই অনুসন্ধান পুনরায় সক্রিয় করেছে কমিশন।

এর আগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের বৃক্ষরোপণ প্রকল্প এবং মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক।

একই অভিযোগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের সাবেক পরিচালক গোফরানুল হক ও তৈয়বুর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তারা দুদকে হাজির হননি বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ডেসটিনি-সংশ্লিষ্ট আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালক ও সাবেক ডিএমসিএসএলের সহসভাপতি মোহাম্মদ গোফরানুল হক, সাবেক পরিচালক ও ডেসটিনি বিল্ডার্সের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ইরফান আহমেদ সানী, মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আকবর হোসেন সুমন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ