সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬

তেল চুরি শুরু জাহাজ থেকে, বিজ্ঞান জানে চোরেরা

সরকারি তেল কোম্পানিতে তেল চুরির ঘটনা মোটামুটি নিয়মিতই ধরা পড়ে, তদন্ত কমিটিও হয়। তবে চুরি থামে না। যমুনা অয়েল কোম্পানির এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের ২৩ এপ্রিল রাজশাহীতে রেল ওয়াগনে রাখা ৫ হাজার লিটার ডিজেল পাচারের সময় কোম্পানির একজন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর আগের সেই মামলা এখনো বিচারাধীন।

আট বছর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে চাঁদপুরের যমুনার ডিপোতে অবৈধভাবে ৭ লাখ লিটারের বেশি ডিজেল বিক্রির ঘটনায় ডিপো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পরের মাসেই এ ঘটনায় প্রতিবেদন দেয় তদন্ত কমিটি। জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তাঁরা এখনো বহিষ্কার রয়েছেন। দুদকেও তদন্ত চলমান আছে। তবে পুরো চক্র শনাক্ত না হওয়ায় চুরি থামছে না।

জ্বালানি তেল আমদানি ও উৎপাদনের কাজটি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বাজারে সেই তেল বিক্রি করে বিপিসির আওতাধীন তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। কোম্পানিগুলো তেল বিক্রি থেকে নির্দিষ্ট কমিশন পায়। তেল বিক্রির লাভ বা লোকসানের দায় বিপিসির। তবে নির্দিষ্ট পরিচালন ক্ষতি (অপারেশনাল লস) বাদ দিয়ে তেল বিক্রির হিসাব বুঝিয়ে দিতে হয় কোম্পানিগুলোকে।

মুনা অয়েল কোম্পানির এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের ২৩ এপ্রিল রাজশাহীতে রেল ওয়াগনে রাখা ৫ হাজার লিটার ডিজেল পাচারের সময় কোম্পানির একজন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর আগের সেই মামলা এখনো বিচারাধীন।

দুই ধরনের ক্ষতি হিসাব করার সুযোগ পায় তেল কোম্পানি। একটি রূপান্তরজনিত ক্ষতি। বিষয়টি হলো, যখন তাপমাত্রা বেশি থাকে, তখন তেল পরিমাণে বেড়ে যায়। বিপিসি সূত্র বলছে, তেল কেনার সময় ১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় তেল পরিমাপ করে নেয় বিপিসি। তবে দেশের ভেতরে তেল সরবরাহের সময় তারা মাপে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। বিপিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাপমাত্রার এ তারতম্যের কারণে ৩০ হাজার টন তেল বেড়ে ৩০ হাজার ৩০০ টন হয়ে যায়। দেশে শীতের তিন মাস ছাড়া বছরের বাকি সময় তেল বাড়ে। বিজ্ঞানের এই সূত্র চোরদের জানা আছে।

যমুনা তেল কোম্পানির ফতুল্লা, দৌলতপুর ও বাঘাবাড়ী ডিপোর গত এক বছরের (২০২৪-২৫) তেলের হিসাব সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো। বাঘাবাড়ির হিসাব বলছে, রূপান্তরের সময় তাপমাত্রা কমায় অক্টোবর থেকে মার্চ—ছয় মাস তাদের তেলের সার্বিক পরিমাণ কমেছে। বাকি ছয় মাস বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে জানুয়ারিতে, প্রায় ১ শতাংশ, যা সোয়া ২ লাখ লিটারের সমপরিমাণ। যদিও জানুয়ারিতে কাজের সময় তাদের তেল বেড়েছে ১৩ হাজার ৪৩৭ লিটার।

দৌলতপুর ডিপোর হিসাব বলছে, রূপান্তরে তেল কমেছে সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। যদিও এই আট মাসে কাজের সময় তাদের তেল বেড়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে রূপান্তরে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ হাজার লিটার, আর কাজের সময়ে বেড়েছে ৯৬ হাজার লিটার। তাতে সব মিলে এ মাসে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। ফতুল্লা ডিপোর হিসাব বলছে, ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চার মাস রূপান্তরে ক্ষতি হয়েছে ফতুল্লায়। বাকি আট মাস তাদের তেল বেড়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ