
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এস এম কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী, দলিল লেখক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এস এম কামরুল হোসেন ২০১৬ সালে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর লালমনিরহাটের আদিতমারী, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, গাইবান্ধা সদর এবং বর্তমানে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার তুলনায় তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক। অনুসন্ধানে পাওয়া দলিলপত্র অনুযায়ী, বগুড়া সদর, শেরপুর ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় তার নামে একাধিক জমি রয়েছে।
এছাড়া তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা খাতুনের নামেও বগুড়া ও শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি নিবন্ধিত রয়েছে বলে নথিপত্রে দেখা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকদের অভিযোগ, দুপচাঁচিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে দলিলে ত্রুটি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং পরে দালালচক্রের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস এবং দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার এস এম কামরুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করলেও অভিযোগ ও সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কথোপকথন শেষ করে দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সম্পদের উৎস যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। তদন্তে ভিন্ন কোনো তথ্য উঠে এলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

