
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গুদাম থেকে সরকারি ও ইউনিসেফের লোগো সংবলিত বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উধাও হওয়ার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুদাম থেকে হারিয়ে যাওয়া মালামাল বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেই জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দাবি, বিষয়টি আড়াল করতেই পরে চুরির অভিযোগ তুলে নাটক সাজানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে রৌমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগোযুক্ত ১১০টি বালতি ও ঢাকনা, ২৯০টি জেরিকেন, কয়েকটি সিলিং ফ্যান, শত শত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ন্যাপকিনসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উধাও হয়ে যায়। তবে ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ১ মে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।
জিডির ভিত্তিতে পুলিশ রৌমারী বাজারের কয়েকটি হার্ডওয়্যার দোকানে অভিযান চালিয়ে হারিয়ে যাওয়া মালামালের কিছু অংশ উদ্ধার করে। বাজারে প্রকাশ্যে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিক্রির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি গুদামের মালামাল কীভাবে ব্যবসায়ীদের দোকানে পৌঁছাল?
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নিজের দায় এড়াতে লোকদেখানোভাবে জিডি করেছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে বৃহস্পতিবার। সেদিন রৌমারী থানা থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল কোনো নিয়মিত মামলা ছাড়াই কেবল একটি মুচলেকার মাধ্যমে দ্রুত ফেরত নেওয়া হয়। আদালতের অনুমোদন ছাড়া উদ্ধার হওয়া চুরির মালামাল হস্তান্তরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মামলা না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা করতে আগ্রহী ছিল না। তবে কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি নিজেই মামলা করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনা অনুসরণ না করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার থানা থেকে মালামাল ফেরত আনার সময় ছবি তুলতে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

