
সম্পদ গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্ত্রীসহ মামলার মুখোমুখি; বিচারিক কার্যক্রম চলমান
কর বিভাগের কর্মকর্তা আবু হাসান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী লাকী রেজওয়ানার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, খাইরুল ইসলাম সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন, যার একটি অংশ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। অনুসন্ধানকালে তার আয়-ব্যয়ের তথ্য, ব্যাংক হিসাব, জমি নিবন্ধন, ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য এবং বাস্তবে পাওয়া সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি অনুসন্ধানে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
অনুসন্ধানে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কোটামনি এলাকায় নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির মালিকানা, নির্মাণ ব্যয় এবং অর্থের উৎস যাচাই করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খাইরুল ইসলামের স্ত্রী লাকী রেজওয়ানার নামে থাকা কিছু সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার ধারণা, পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগও এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিছু লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মামলাগুলো আদালতে গড়ানোর পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত পরবর্তীতে তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খাইরুল ইসলাম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সম্পদের পেছনে বৈধ উৎস রয়েছে এবং আদালতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পদের পরিমাণ, আয়ের উৎস এবং উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক প্রমাণ করতে হয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও সম্পদের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করার সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার রয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী নিয়মিত যাচাই ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে সম্ভাব্য অনিয়ম প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো আইনগতভাবে প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

