
রাজধানীতে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর প্রধান কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক আবু পলাশ (ইঞ্জিঃ)-এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা, আয়কর নথিতে তথ্য গোপন এবং ঠিকানা জালিয়াতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
চাকরিজীবন ও পদোন্নতি
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু পলাশ ২০১৪ সালের জুন মাসে সহকারী মোটরযান পরিদর্শক/মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে বিআরটিএতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি মোটরযান পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরির শুরু থেকেই তিনি তদবির ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন এবং সময়ের সঙ্গে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে তোলেন।
দালাল সিন্ডিকেট ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মেট্রো সার্কেল অফিসে দালাল নিয়োগে প্রভাব খাটাতেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও ফাইল নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হতো।
আয়কর নথি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, আবু পলাশের ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৬০ লাখ ৪০ হাজার ২৪৬ টাকা। একই নথিতে তার বাৎসরিক বেতন দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৬৮ টাকা। অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, গত এক দশকে তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের পরিমাণের সামঞ্জস্য কতটুকু।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার কাছে থাকা ৩৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হলেও আয়কর নথিতে তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া কুষ্টিয়ায় বহুতল বাড়ি, উত্তরায় ফ্ল্যাটে বসবাস এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রীর নামে একাধিক মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার রেন্ট-এ-কার ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এসব সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
ঠিকানা সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগ
একটি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তার আয়কর নথিতে উল্লেখিত স্থায়ী ঠিকানার সঙ্গে প্রকৃত ঠিকানার মিল পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীরা জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএন নম্বরসংক্রান্ত তথ্যও সংযুক্ত করেছেন। তাদের দাবি, তিনি আয়কর নথিতে যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, বাস্তবে সেখানে বসবাস করেন না।
অতীত কর্মস্থল ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জামালপুরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিআরটিএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
কিছু অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তার সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
তদন্ত দাবিতে সংশ্লিষ্টদের নীরবতা
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপদেষ্টা, সচিব, চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু পলাশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

