রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬

পরিবার নয়, শিক্ষকের স্বামীর মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা! চাঞ্চল্য আখাউড়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা তার পরিবারের পরিবর্তে শ্রেণিশিক্ষকের স্বামীর মোবাইল নম্বরের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষিকার স্বামীর পক্ষ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি অর্থ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরশ মিয়া ২০২৪ সালে উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপবৃত্তির আবেদন করার সময় তার পরিবারের কোনো সদস্যের মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল নম্বর যুক্ত করেন। এরপর ছয় মাস পরপর উপবৃত্তির অর্থ ওই নম্বরের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকে। আড়াই বছরে সেখানে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সামনে আসে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ মিয়ার অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে তার মা খুকি বেগমকে বিদ্যালয়ে ডাকেন বর্তমান শ্রেণিশিক্ষক স্বীকৃতি রায়। এ সময় তাকে জানানো হয়, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জবাবে খুকি বেগম জানান, তার ছেলে কখনোই উপবৃত্তির কোনো টাকা পাননি।

এরপর বিদ্যালয়ের নথিতে সংরক্ষিত মোবাইল নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, সেটি পরশের পরিবারের নয়। পরে নম্বরটিতে যোগাযোগ করলে সেটি শিক্ষিকা আয়েশা আক্তারের স্বামী ইব্রাহিম খলিলের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার একাধিকবার ফোন করলেও ইব্রাহিম খলিল ফোন রিসিভ করেননি। পরে অন্য এক শিক্ষকের ফোনে তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং পরশের মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। পরে বিকেলে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দিয়ে জানান, আড়াই বছরে এত টাকাই তার অ্যাকাউন্টে এসেছে।

বর্তমান শ্রেণিশিক্ষক স্বীকৃতি রায় বলেন, পরশ উপবৃত্তির টাকা পায় না শুনে তিনি বিস্মিত হন। পরে নথি যাচাই করে অন্য একজনের মোবাইল নম্বর দেখতে পান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষককে অবহিত করা হয়।

শিক্ষার্থী পরশের মা খুকি বেগম বলেন, তিনি আগে জানতেনই না যে তার ছেলে উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পরে জানতে পারেন, উপবৃত্তির টাকা অন্য একজনের মোবাইল নম্বরে গেছে। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি টাকার বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, আগে উপবৃত্তির আবেদনে অন্য কারও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগে শিক্ষার্থীর পরিবারের পরিবর্তে অন্য একটি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। নম্বরটি বিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষকের স্বামীর বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ