মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

সিইউএফএল এমডি, ব্যবসায়ি সি’ন্ডি’কেট ৮০ লাখ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে আর সারের ব্যাগ সেলাইয়ে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)এ ব্যাগিং, স্ট্যাকিং, ক্লিনিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের ঠিকাদার নিয়োগে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রাধীন সারখানায় বিগত ৩০ বছরের অভিজ্ঞতার কঠিন শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, সারের বস্তা সেলাই, ব্যাগিং স্ট্যাকিং, ক্লিনিং করে থাকে শ্রমিকরা, কিন্তু অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে ঠিকাদারের। শুধু তাই নয় ৪টি স্থানে টেন্ডার বক্স থাকার কথা থাকলেও টেন্ডার বক্স রাখা হয়েছে শুধুমাত্র সিইইএফএলে। যেখানে সারা দেশে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া এখন ইজিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, সেখানে রহস্যজনকভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। টেন্ডারের দিন পুলিশ পহারা রাখার বিধান থাকলেও পুলিশকে ডাকা হয়নি। ১০টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার শিডিউল ক্রয় করলেও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমা দিতে বাধা দিয়েছে দুই প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ।

শুধু মাত্র সিইউএফএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান মনোনীত ২টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। আর ৮০ লাখ টাকা বাড়তি দরের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার জন্য এমডি বিশেষ তোড়জোড় শুরু করেছে। এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের স্বচ্ছতা, নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে পুনঃদরপত্রের সিডিউল গত ৩ মে থেকে বিক্রি শুরু হয়।

১৮ই মে থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত দরপত্র গ্রহণ করার কথা সিডিউলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১৮ মে থেকে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগসাজসে পুরো চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড নিয়ন্ত্রণে নেয়। শেষ দিন ২৪ মে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা টেন্ডারে অংশ নিতে গেলে সকাল থেকে তাদের ভিতরে প্রবেশে বাঁধা দেয়। ২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়া অন্যরা প্রবেশ করতে পারেনি। এক পর্যায়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ কর্ণফূলী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আগে কেন সিএফইউএল কর্তৃপক্ষ পুলিশ মোতায়নের জন্য চিঠি লিখেনি সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে একই কাজের জন্য প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার দরপত্র জমা পড়ে। তবে সেটিকে অতিরিক্ত দর উল্লেখ করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মে মাসে পুনঃদরপত্রে দর আরও বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছে যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে যে দরকে আগে অতিরিক্ত বলা হয়েছিল, পুনঃদরপত্রে আরও বেশি দর কীভাবে গ্রহণযোগ্য হলো?

অভিযোগকারীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ম্যানুয়াল টেন্ডারের সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দর নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ইজিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হলে সারা দেশের ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারতেন এবং প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করায় সীমিত গোষ্ঠীর বাইরে কেউ কার্যত অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। ব্যবসায়িরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে এমন অস্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া শুধু বতমান বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং এতে কোটি কোটি টাকার অপচয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এবং ২৪ শে মে টেন্ডার বাতিল করার দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গত মাসে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার টেন্ডার জমা পড়েছিল। তখন সেটিকে অতিরিক্ত মনে হওয়ায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৪ মে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার দরপত্র জমা পড়ে বলে জানান। তিনি অতীতে ৫টি স্থানে টেন্ডার বাক্স থাকার বিধান থাকলেও ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিং টেন্ডার বক্স কেন শুধু সিএফইউএল সার কারখানায় দাখিল করার ব্যবস্থা নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গত জানুয়ারি মাসে কর্তৃপক্ষ মিটিং করে আগের বিধান বাতিল করেছে।

প্রশ্ন ওঠেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা নিতে আগের বিধান বাতিল করা হয়েছে? কেন ইজিপি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে সনাতন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ