মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

শ্যামনগরে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্পে হা’মলা-লুট’পাট, ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মা’ম’লা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্পে ফের হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা, চাঁদা দাবি এবং কর্মরত প্রকৌশলীদের ওপর হামলার অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান, তার ছেলে ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তার ছেলে আঃ রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন। এরপর একদল লোক নিয়ে প্রকল্প এলাকায় হামলা চালিয়ে দায়িত্বরত প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের কাছ থেকে একটি অ্যাপল আল্ট্রা স্মার্টওয়াচ, নগদ টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, পুরো হামলার ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান বলেন, বর্ষার আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় এলাকা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। কিন্তু বারবার হামলা, হুমকি ও বাধার কারণে কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের পোল্ডার-৫ এলাকায় সিসি ব্লক স্থাপন ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর পুরো প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হামলা, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান বলেন, প্রকল্প এলাকায় হামলার ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প যাতে নির্বিঘ্নে বাস্তবায়িত হতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ