সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

রাজস্ব কর্মকর্তার আয়কর নথিতে কোটি টাকার সম্পদ, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের বিপুল সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আয়কর নথিতে তিনি যে সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন, বাস্তবে তার মূল্য আরও কয়েকগুণ বেশি। ফলে সম্পদের প্রকৃত মূল্য গোপন করে কর ফাঁকির পাশাপাশি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইলে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। আয়কর নথির সম্পদ বিবরণীতে কৃষি ও অকৃষি উভয় ধরনের সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় “অ্যাসপেন হাইটস” নামের একটি আবাসিক ভবনের ১ হাজার ৫০৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৪১ লাখ টাকা। তবে স্থানীয়দের দাবি, ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটিরও বেশি।

মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকায় দেড় কাঠা জমির ওপর একটি আধাপাকা বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। যদিও জমির আলাদা মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয়দের মতে, ওই সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি।

এছাড়া মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬৯৪ ডেসিমেল জমির মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমিটির প্রকৃত বাজারমূল্য নথিতে দেখানো মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি।

একইভাবে বসিলা-কাটাসুর, রামচন্দ্রপুর ও জুয়ার সাহারা মৌজাতেও একাধিক জমির তথ্য সম্পদ বিবরণীতে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব জমির সম্মিলিত বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার বেশি।

জুয়ার সাহারা মৌজার একটি জমির ক্ষেত্রে চলতি আয় বছরে ৩০ লাখ টাকা সম্পদ বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। তবে বাজারদর অনুযায়ী জমিটির মূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি এলাকাবাসীর।

অন্যদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খারজানা মৌজায় ৩৫ দশমিক ১ ডেসিমেল জমি বড় ভাইয়ের কাছ থেকে হেবা হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। এর মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। তবে স্থানীয়দের দাবি, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য ২ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যে।

এছাড়া টাঙ্গাইল সদরের আরও কয়েকটি জমি ও রক্ষিত বেলতা মৌজার জমির মূল্যও বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্পদ বিবরণীতে ১৮ বিঘা কৃষি, অকৃষি, পুকুর ও বসতভিটার জমির তথ্য থাকলেও এসব সম্পদের কোনো আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, শুধু এই জমিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্যই ২০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, একজন রাজস্ব কর্মকর্তার মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে সরকারি চাকরির বেতনে এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি বেতনে পরিবার চালানোই কঠিন। সেখানে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়া সাধারণভাবে সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ