সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দা’লা’ল সি’ন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

চট্টগ্রামের বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়কে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, কার্যালয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই চক্র সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স, নাম পরিবর্তন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিআরটিএ বালুচরা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোনো যানবাহন বা গ্রাহক কার্যালয়ে প্রবেশ করামাত্রই একদল দালাল ঘিরে ধরছে। তারা জোর করে ফাইল ও কাগজপত্র নিয়ে নিচ্ছে এবং নিজেদের মাধ্যমে কাজ করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেউ নিজে নিয়ম মেনে কাজ করতে চাইলে ভেতরে থাকা কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা অজুহাতে ফাইলে ত্রুটি দেখিয়ে কাজ আটকে দেন। পরে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী বলেন, “এখানে দালাল ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না। আমরা নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। শেষ পর্যন্ত দালালের কাছে যেতে বাধ্য হতে হয়।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বালুচরা বিআরটিএ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন শাখার কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নম্বর প্লেট শাখায় রাশেদ নামে এক ব্যক্তি কর্মচারী শাকিলের সহযোগিতায় কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। এছাড়া তার ভাই মাসুদ নাম পরিবর্তনের কাজ এবং হান্নান নামে আরেক ব্যক্তি ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেবাপ্রার্থীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে গেলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। অথচ দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিলে একই কাজ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অনেক মানুষ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আর যারা টাকা দিতে পারছেন না, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সময়মতো কাগজপত্র না পাওয়ায় অনেক চালক ট্রাফিক পুলিশের মামলার মুখেও পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে চলতি মাসের ১৯ তারিখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেলিম ও শাহাবুদ্দীন নামে দুই দালালকে সাজা দেওয়া হলেও দালাল সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

দালাল সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে অফিসে এসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিআরটিএ কার্যালয়ের উপপরিচালক সানাউল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে দালালচক্র ভেঙে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ