বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬

নওগাঁর চণ্ডীপুর ভূমি অফিসে ঘু’ষ-বাণিজ্যের অ’ভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

নওগাঁর চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে জমি খারিজ অনুমোদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট নওগাঁ পৌরসভা-চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই হাবিবুজ্জামান জিয়া একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর থেকে খাজনা, নামজারি ও জমি খারিজসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। নির্ধারিত টাকা না দিলে আবেদন ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে টাকা লেনদেনের চিত্র দেখা গেছে। এক নারী সেবাগ্রহীতাকে অফিসের এক কর্মচারীর হাতে টাকা দিতে দেখা যায়। এ সময় ওই কর্মচারীকে বলতে শোনা যায়, “বসকে দেন, আমাকে না।”

ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই কাঠা জমির খারিজ করতে গিয়ে তিনি প্রথমে ৩ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩ হাজার টাকা দেন। এরপরও তার আবেদন বাতিল করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি মাদ্রাসার জমি খারিজের জন্য প্রথমে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি এক লাখ টাকা দেন। এরপর আরও ঘুষ দাবি করা হলে তিনি রাজি না হওয়ায় তার আবেদন বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছেও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার হাপানিয়া-বক্তারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ২০১৯ সালে হাবিবুজ্জামান জিয়া অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই একটি জাল খতিয়ানের মাধ্যমে খারিজ অনুমোদন দেন। সে সময়ের তদন্ত কর্মকর্তা ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট খতিয়ানটি ছিল বানোয়াট এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল নিয়মবহির্ভূত।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ডের মধ্যে অসংগতি থাকা সত্ত্বেও অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেই খারিজ অনুমোদনের প্রস্তাব দেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। জাল খতিয়ানের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওটা মীমাংসিত একটি বিষয়।”

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এক ভুক্তভোগী মৌখিক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ