
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাম্প্রতিক নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ কমিটির প্রভাবশালী একটি চক্র মেধাবী প্রার্থীদের উপেক্ষা করে নিজেদের অনুগত ও আত্মীয়স্বজনদের সরকারি পদে নিয়োগ দিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুল হাসানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়। এ ছাড়া তার ভাই হিলফুল ফুজুল, বেঞ্চ সহকারী আলামিন এবং প্রসেস সার্ভেয়ার সোহেলের বিরুদ্ধেও নিয়োগে প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দাবি, গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়নি। বরং গোপনীয়তার মধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে নিয়োগপত্র। অভিযোগ রয়েছে, জেলা জজের ব্যক্তিগত বাসভবনের গৃহকর্মী, ব্যক্তিগত গাড়িচালক, নিকটাত্মীয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার দিন জালিয়াতির অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কমুক্ত দেখাতে এবং আর্থিক লেনদেন আড়াল করতেই অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নাটোরে চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দাবি করছেন, বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ হয়, তবে সাধারণ মেধাবীদের জন্য সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়বে।
সচেতন মহল অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকৃত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

