বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

পলা’তক লীগ নেতাদের বিলাসবহুল গাড়ি জা’লি’য়াতিতে কোটি কোটি টাকার মালিক বিআরটিএ দা’লা’ল রুবেল!

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের বিলাসবহুল গাড়ির মালিকানা অবৈধভাবে বদল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিরপুর বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল মো. হারুন অর রশিদ রুবেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার এড়াতে আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বা আত্মগোপনে চলে যান। তাদের ফেলে যাওয়া ল্যান্ড ক্রুজার, প্রাডো, হ্যারিয়ার, অডিসহ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়িগুলো দ্রুত বিক্রির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দালাল রুবেল বাজারমূল্যের অনেক কম দামে গাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে মালিকানা পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই বিআরটিএ কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি দিতে হয়। কিন্তু বিক্রেতারা পলাতক থাকায় তাদের উপস্থিতি সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে রুবেল বিআরটিএর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে জাল স্বাক্ষর, ভুয়া হলফনামা ও ব্যাকডেট এন্ট্রির মাধ্যমে বিক্রেতার অনুপস্থিতিতেই গাড়ির ফাইল পাস করিয়ে দেন। গাড়িপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

‘শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার’ থেকেই নিয়ন্ত্রণ

স্থানীয় সূত্র বলছে, মিরপুর বিআরটিএর পশ্চিম পাশে অবস্থিত শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টারের একটি অফিস থেকেই পুরো সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে হলেও, এটিকেই অবৈধ গাড়ি বেচাকেনা ও ফাইল জালিয়াতির মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রুবেল নিজের ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন সিএনজি ও গাড়ির নথিতে কম মূল্য দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকিরও অভিযোগ রয়েছে। কাগজে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্য দেখানো হলেও বাস্তবে প্রতিটি সিএনজির বাজারমূল্য ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।

সম্পদের পাহাড়

রুবেলের নামে রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতায় ফ্ল্যাট, শাহআলী প্লাজায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একাধিক সিএনজি ও মাইক্রোবাসের তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী তানিয়া আক্তারের নামেও রয়েছে অন্তত ৮টি সিএনজি। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর অবৈধ আয়ের টাকাতেই এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নীরবতা

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও হারুন অর রশিদ রুবেল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফোনকল কেটে দেন তিনি।

এদিকে বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট সাধারণ গ্রাহক ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও মূল দালালচক্র সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তারা দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তাদের মতে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিআরটিএতে দালালচক্র ও রাজস্ব ফাঁকির সংস্কৃতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ